অভিশপ্ত রাত্রি

অভিশপ্ত রাত্রি, Md najmul Hauqe#পর্ব_১

অভিশপ্ত রাত্রি

Md najmul Hauqe

#পর্ব_১

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

চারদিকে বিদঘুটে অন্ধকার। আশেপাশে জোনাকি পোকার ঝিঝি শব্দ।আজ যেন কিছুতেই ঘুম আসছে না।

পৃথিবী একদম নিশ্তব্দ প্রকৃতির। ঘুম যেন হাওয়া হয় গেছে। বিছানাতে এদিক ওদিক করতে আর ভালো লাগছে না । একটু হাওয়া খাওয়া দরকার, হাওয়া হয়ে যাওয়া ঘুম যদি হাওয়ার সাথে আবার ফেরত আসে !

রাত তখন ১টা, বাসার সবায় নিজ নিজ রুমে নাক ডাকছে। আব্বা হয়তো এখনও সারাদিন ব্যবসার হিসাব~নিকাশ কষছে। রুমের বাইরের হাওয়াতে তৃপ্তি পেলাম না, বাসার বাইরে যেতে ইচ্ছা হলো।

মেইন গেটে তালা দেওয়া চাবি অবশ্য তালার পাশেই ঝুলানো আছে । বাসার লোকের কান্ড দেখে হাসি পায় ,চাবি তালার পাশে রাখলে তালা মারে লাভটা কি ?

এখন তালা খুলে বাইরে যেতে পারি কিন্তু লোহার গেট খুলতে গেলে শব্দ হবে আর বাসার কেউ একজন উঠে এসে মহাবানী শুনাবে। এখন মহাবানী শুনার মুড নাই তাই একটাই উপায় দেওয়াল টপকানো !

এর আগেও এই দেওয়াল অনেকবার পার হয়ছি কিন্তু এই মাঝ রাতে কেউ দেখলে চোর বলে চিল্লানী দিবে। ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে। দোটানায় পড়ছি। এখন আবার আমার রুমে ফেরত যাওয়ার ইচ্ছা নাই তাই একটু রিস্ক নিতে হবে, রিস্ক ছাড়া দুুনিয়া চলে না।

ধুপ করে মাটিতে পড়লাম । চেয়েছিলাম আসতে ল্যান্ডিং করতে কিন্তু নিউটনের অভিকর্ষ বলের প্রভাবে পায়ে সামান্য ব্যথা পেলাম । এটা কিছু না উপর থেকে লাফ দিলে সামান্য পায়ে ব্যথা করে, কিছুক্ষন গেলে নিজে ঠিক হয়ে যাবে।

এলাকার গলি থেকে ইয়ারফোন গুজে মাঠের দিকে এগোচ্ছি। কানে তপুর ঠান্ডা গান বাজছে, গায়কটা খুব ভালোই গায়। তার গানে শিক্ষনীয় কিছু থাকে !

চৌধুরি সাহেব এর বাসার সামনে নাইট গার্ডটা সালাম দিল খুব ভালো লোক অপেক্ষায় থাকে কাকে সালাম দেয়া যায়। সালামের উত্তর দিয়ে মাঠে উপস্থিত হলাম। মিনারের লাইট গুলো যেন রাতের সৌন্দর্যটা বাড়িয়ে দিছে ! উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগা মিনার বলে কথা। হালকা ঠান্ডা বাতাসে যেন মনের ভিতরটা শীতল হয়ে গেল। এত পরিশ্রম করে লাভ হলো , এমন একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা সৃত্মিতে থাকে যাবে।

এই আবহাওয়ায় ধোয়ার পিপসা পেল।

শহীদ মিনারের পাশে একটা দোকান সারা রাত খোলা থাকে। সেখান থেকে দুটা ধুম্রকাঠি কিনলাম। এখন কানে প্লেলিষ্ট এর ‘নিকোষ কালো এই আধারে’ গানটা বাজছে। কষ্ট গুলা যেন ধোয়ার টানে টাটকা হচ্ছে আবার ধোয়া ছাড়ার সাথে উড়ায় যাচ্ছে। মোবাইলের ডায়রি বের করে লেখার চেষ্টা করছি ।

>>>

কষ্ট দিছিস ভালো করছিস,

ধোয়া পুড়েছি স্মরণে।

সময় আমাকে কাব্যিক করছে,

তোর প্রেমেরই দহনে।

সারাদিন এখন কাব্য খুজি,

মস্তিষ্কের সব স্নায়ূতে।

দেখিস একদিন বড় হবো,

ছোট এই আয়ুতে।

হয়তো তখন আফসোস করবি,

কাদবি শুধু নিরবে।

আমি জিতেও হেরে যাব,

তোকে হারানোর গৌরবে।

.

কি থেকে কি লিখলাম নিজেও জানি না, তবে লেখা শেষে লক্ষ করলাম নিজের বাস্তবতার লিখিত রুপ ! এই পরিবেশে অতীতকে টানতে চাই নি হয়তো মনের ভিতর কবিতাটা অনেক আগে থেকেই ছিল কোনদিন লিখতে চেষ্টা করি নি। এখন হাতের আঙ্গুল কাপছে, smocking করতে ঠোটও কাপছে। ফোনের স্কিন অফ করে পকেটে রাখলাম। মিনারের দিকে তাকিয়ে আছি, হটাৎ মিনারের আলো ঝাপসা হয়ে গেল !

.

(#চলবে, সাথে থাকুন)

 

Like us on Facebook Page

Join us on Facebook Group

Contact us on web

Subscribe now to get newsletter

    মন্তব্য করুন

    Translate »
    %d bloggers like this: